Responsive Ads Here

Monday, December 17, 2018

আদর্শবান, কির্তিমান, বড় হতে হলে ছোট-বড়, ধনী-গরীব সবার সাথে মিশতে হয়। একটি শিক্ষনীয় গল্প....

                        ﺑِﺴْﻢِﺍﻟﻠَّﻪِﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢ

সবাই কেমন আছেন...
চলুন,একটি শিক্ষনীয় গল্প পড়ি...

কালো একটা মেয়ে ছোট একটা চাকুরীর জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব রেস্টুরেন্টের মালিক সোজা বলে দিচ্ছে, দেখো, আমেদের এখানে কোন লোক লাগবে না। তুমি অন্য কোথাও যাও। কালো মেয়েটি হতাশ হয়ে অন্য রেস্টুরেন্টে যায়।

এভাবে সে চাকুরীর খুঁজতে খুঁজতে একদিন একটি চাকুরী পেয়ে গেল এক রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের মালিক প্রথম দিন ই তাকে বলে দিলো যে, কখনো দেরি করে আসা চলবে না। দেরি করে আসলে তোমার চাকুরী থাকবে না। মেয়েটি সব কিছু মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে রেস্টুরেন্টে। খাবারের অর্ডার নিচ্ছে সে, তারপর আবার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে টেবিলে টেবিলে। খাওয়া শেষ হবার পর টেবিল পরিস্কার করছে সে। প্রায় প্রতিদিন, কাজের কিছু অদক্ষতার জন্য বকা খাচ্ছে সে।

কখনো হয়তো কোন কাস্টমারের সামনে থেকে কফির মগ নিতে গিয়ে কাস্টমারের গায়ে একটু কফি ফেলে দিয়েছে। কাস্টমার প্রচন্ড রেগে মালিকের কাছে নালিশ করেছে।
মেয়েটি মালিকের কাছে কাঁদো কাঁদো সরি বলে বেঁচে গেছে। গায়ের রং কালো বলে সম্ভবত রেস্টুরেন্টের অন্য ছেলেরা পাত্তা দেয়নি। কোন দিন তার সহকর্মীর জন্মদিনে তার বাসায় গেলো। কেক কাটার পর যে খাবার দেওয়া হলো, সহকর্মীরা লক্ষ্য করে দেখলো কালো মেয়েটি একদম ই সেই খাবার গুলো খেতে পারছে না। সহকর্মীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, খাবারে কোন সমস্যা অাছে কি না। জবাবে, সে বললো, না, আমার পেট ভরা, তাই খেতে পারছি না।

কোন কোন দিন রেস্টুরেন্টের অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে কম দামি গাড়িতে করে কোথাও ঘুরতে ও গিয়েছিলো কাল মেয়েটি। কম দামী গাড়িতে বেশ কষ্ট ও হয়েছে তার। এতে, মুখ খুলো কাউকে কিছুই বলেনি সে। সব কিছু চেপে গেছে আর ভেবে নিয়েছে যে, আমি অন্য দশটি মানুষের মতোই মানুষ। সুতরাং, তারা পারলে আমি পারবো না কেনো। দিন এভাবে ই যাচ্ছিলো।

একদিন তার সহকর্মীর একজন লক্ষ্য করে দেখলো যে, কালো মেয়েটি রেস্টুরেন্ট থেকে ছয়জন বিশালদেহি মানুষ তাকে ঘিরে রাখে। রেস্টুরেন্টে শুরু হলো গুঞ্জন, কানাকানি। এভাবে ঘটনা চলে যায় সাংবাদিকদের কাছে। বেড়িয়ে আসে কালো মেয়েটির পরিচয়। সবাই জানতে পারে, কালো মেয়েটি প্রেসিডেন্টের মেয়ে। তারপর দেশে দেশে আলোচনা উঠে, নিউজ হয়।

বিশ্ব জেনে যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে সাশা ওবামা নিজের পরিচয় লুকিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটির ফাঁকে ম্যাসাচুসেটসের মার্থাস ভিনিয়ার্ড নামের একটি দ্বীপের ওই রেস্টুরেন্টে কাজ নিয়েছেন তিনি। অনেকদিন পর্যন্ত সাশার সহকর্মীরাও তাকে চিনতে পারেনি। পরে রেস্টুরেন্ট ঘিরে সার্বক্ষণিক ছয়জন গোয়েন্দার বিষয়টি অবস্থান বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে।

এদিকে বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা বলেন, "সন্তানদেরকে একটা বয়সের পরে রাজকীয় বিলসিতা ছাড়তে বাধ্য করেছি। কারন তাদের সাধারন মানুষের সাথে মিশতে হবে। অন্য দশটি মানুষের মতোই বাঁচতে শিখতে হবে তাদের"।

তাদের চিন্তাভাবনা কি রকম। আমাদের.....

No comments:

Post a Comment